চট্টগ্রাম জেলার তথ্যাবলী ও নামকরণ ইতিহাস

বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল চট্টগ্রাম জেলা। পাহাড়, সমুদ্র, উপত্যকা, বন বনানীর কারণে চট্টগ্রামের মতো ভৌগোলিক অবস্থান বৈচিত্র্য বাংলাদেশের আর কোন জেলায় নেই। ১৬৬৬ সালে চট্টগ্রাম জেলা গঠিত হয়। তিন পার্বত্য জেলা এ জেলার অন্তর্ভূক্ত ছিল। ১৮৬০ সালে পার্বত্য এলাকা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা গঠন করা হয়। পরবর্তীতে এ জেলা ভেঙ্গে কক্সবাজার জেলা গঠিত হয়।

poat-image

বাংলাদেশের দক্ষিণপূর্বে ২০ডিগ্রি ৩৫ থেকে ২০ডিগ্রি৫৯  উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১ডিগ্রি ২৭  থেকে ৯২ডিগ্রি ২২ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ বরাবর এর অবস্থান। ভৌগোলিক সীমানা  চট্টগ্রাম জেলার উত্তরে ফেনী জেলা এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, দক্ষিণে কক্সবাজার জেলা, পূর্ব দিকে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলা, এবং পশ্চিমে নোয়াখালী জেলা এবং বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। এছাড়া দ্বীপাঞ্চল সন্দ্বীপ চট্টগ্রামের অংশ।

poat-image

চট্টগ্রামের প্রায় ৪৮টি নামের খোঁজ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‌ রম্যভুমি, চাটিগাঁ, চাতগাঁও, রোসাং, চিতাগঞ্জ, জাটিগ্রাম ইত্যাদি। পণ্ডিত বার্নোলির মতে, আরবি "শ্যাত (খণ্ড)" অর্থ বদ্বীপ, গাঙ্গ অর্থ গঙ্গা নদী‌ এ থেকে চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি। অপর এক মত অনুসারে ত্রয়োদশ শতকে এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করতে বার জন আউলিয়া এসেছিলেন, তাঁরা একটি বড় বাতি বা চেরাগ জ্বালিয়ে উঁচু জায়গায় স্থাপন করেছিলেন। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় 'চাটি' অর্থ বাতি বা চেরাগ এবং 'গাঁও' অর্থ গ্রাম। এ থেকে নাম হয় 'চাটিগাঁও'। আবার এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা স্যার উইলিয়াম জোন্সের মতে এ এলাকার একটি ক্ষুদ্র পাখির নাম থেকে চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি। চট্টগ্রাম ১৬৬৬ সালে মুঘল সাম্রাজ্যের অংশ হয়। আরাকানীদের হটিয়ে মুঘলরা এর নাম রাখে ইসলামাবাদ। মোগলরা এর প্রশাসনিক সীমানা চিহ্নিত করে। ১৭৬০ সালে নবাব মীর মুহম্মদ কাশিম আলী খান ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে এটি হস্তান্তর করেন। ব্রিটিশরা এর নাম রাখে 'চিটাগাং'।

poat-image

চট্টগ্রাম জেলার আয়তন ৫২৮৩ কিঃমিঃ। উত্তরে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, দক্ষিণে কক্সবাজার জেলা, পূর্বে বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি, পশ্চিমে নোয়াখালী জেলা ও বঙ্গোপসাগর। পাহাড়, নদী, সমুদ্র, অরণ্য, উপত্যকা প্রভৃতি প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের জন্যে এ জেলা অন্যান্য জেলা থেকে স্বতন্ত্র। বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ৩৩.৮ডিগ্রি সে. এবং সর্বনিম্ম ১৪.৫ডিগ্রি সে.। বার্ষিক বৃষ্টিপাত ৩,১৯৪ মিঃ মিঃ। প্রধান নদীঃ কর্ণফুলী, হালদা ও সাঙ্গু।

poat-image

চট্টগ্রাম বিভাগে মোট ১১ টি জেলা রয়েছেঃ

  • চট্টগ্রাম
  • বান্দরবান
  • ব্রাহ্মণবাড়ীয়া
  • চাঁদপুর
  • কুমিল্লা
  • কক্সবাজার
  • ফেনী
  • খাগড়াছড়ি
  • লক্ষীপুর
  • নোয়াখালী
  • রাঙামাটি

 

poat-image

১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল রাতে ৭০০ যুবক কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়ে আর্টিলারী কোরের অস্ত্রাগার ও গোলাবারুদের ভাণ্ডার আক্রমণ করে, টেলিফোন ও টেলিফোন অফিস দখল করে এবং ধুম নামক স্থানে রেলপথের ফিসপ্লেট উপড়ে ফেলে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তাছাড়া মাস্টারদা নামে খ্যাত ব্রিটিশ রাজের ভীত কাঁপানো এ বিপ্লবীর তত্ত্বাবধানে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার নামে এক উচ্চ শিক্ষিতা বিপ্লবী নারীর নেতৃত্বে পাহাড়তলীতে অবস্থিত ইউরোপীয়ান ক্লাব আক্রমণ করে তা ধ্বংস করে দেয়া হয়। ক্লাব ধ্বংস করে ফেরার পথে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে মহীয়ষী এ নারী পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন। পরবর্তীতে সূর্যসেন ইংরেজ শাসকগণ কর্তৃক গ্রেফতার হন এবং ১৯৩৩ সালের ২০ এপ্রিল তাকে ফাঁসি দেয়া হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ব্রিটিশগণ চট্টগ্রামকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে। ফলে চট্টগ্রাম জাপানি আক্রমণের লক্ষ্যস্থলে পরিণত হয়। ১৯৪২ সালের এপ্রিলে পতেঙ্গার বিমানঘাঁটিতে পর পর দুদিন এবং ঐ বছর ২০ ও ২৪ ডিসেম্বর পুনরায় বোমাবর্ষণ করা হয়।

poat-image

চট্টগ্রাম জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহঃ

  • সীতার পাহাড় সীতাকুন্ড
  • বাড়বকুন্ড
  • পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত
  • নেভাল এরিয়া
  • শাহ আমানত আন্তজার্তিক বিমান বন্দর
  • ফয়েস লেক
  • চেরাগি পাহাড় মোড় (স্মৃতি মিনার)
  • জে এম সেন হল
  • নজরুল স্কয়ার (ডি.সি.হিল)
  • লালদীঘি
  • কালুরঘাট পার্কির চর(আনয়ারা)
  • বৌদ্ধ তীর্থ স্থান চক্রশালা পটিয়া
  • বাটালী হিল
  • আন্দরকিল্লা জামে মসজিদ
  • বাঁশখালী ইকোপার্ক
  • খানখানাবাদ সমুদ্র সৈকত, বাঁশখালী
  • খিরাম সংরক্ষিত বনাঞ্চল, ফকিরছড়ি
  • লোহাগোড়া বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য
  • মহামুনি বৌদ্ধ বিহার, রাউজান। এবং চাঁদপুর বেলগাঁও চা বাগান, পুকুরিয়া, বাঁশখালী

 

আপনি কি সাহায্য পেয়েছেন

সকল মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন নিবন্ধন করুন