সময়ের সাথে ছাতার বিবর্তন

রোদ-বৃষ্টি থেকে যে বস্তুটি আমাদের রক্ষা করে থাকে তা হলো ছাতা। আমাদের দেশসহ সারা বিশ্বের প্রায় সব দেশেই ছাতার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ইংরেজিতে এটি Umbrella, Brolly, Rainshade, Sunshade এবং Gamp নামে পরিচিত। ধারণা করা হয়, রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষাকারী এ প্রয়োজনীয় বস্তুটি আবিষ্কার হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৪,০০০ বছর আগে। প্রথম ছাতা আবিষ্কার করেছিল প্রাচীন মিশরীয়রা। তারাই প্রথম ছাতার ব্যবহার শুরু করে। প্রিস্ট ও ফারাওরা আভিজাত্য ও ধর্মীয় প্রতীক হিসেবে ছাতা ব্যবহার করতো। আসিরীয় ফলক থেকে জানা যায়, ১৩৫০ সালের আগে যখন কোনো সম্রাট তার সঙ্গীকে নিয়ে বের হতেন, তখন দাস-দাসীরা তাদের মাথায় রোদ নিবারক লম্বা হাতলওয়ালা ছাতা ধরে রাখতেন। রোমানরাও রোদ থেকে রক্ষা পেতে প্রাচীনকাল থেকেই ছাতা ব্যবহার করতো। ধর্মীয় ক্ষেত্রে ভারতে ছাতার আর্বিভাব ঘটে প্রাচীনকালেই।

poat-image

চীনাদের মধ্যে ছাতার ব্যবহার ঠিক কখন শুরু হয়, তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। তবে অনেকে মনে করেন, চীনারা মিশর থেকে ছাতার ব্যবহার শিখে নিয়েছিল। তারা স্বচ্ছ পানিরোধক কাগজ ও বাঁশ দিয়ে ছাতা তৈরি করতো। চীনারা প্রথমে ছাতা ব্যবহার করতো সূর্যের তাপ থেকে রক্ষা পাওযার জন্য। তবে বৃষ্টি প্রতিরোধ করার জন্য প্রথম ছাতার ব্যবহার শুরু করে চীনারাই।

poat-image

ছাতা আবিষ্কারের কাহিনী অনেক পুরোনো হলেও অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত ছাতার আকৃতি ছিল বেশ বড় এবং এর ওজনও ছিল বেশি। ১৮৫২ সালে স্যামুয়েল ফক্স স্টিলের চিকন রড দিয়ে রাণী ভিক্টোরিয়ার জন্য ছাতা তৈরি করেন। ইংল্যান্ডে বিশেষ করে লন্ডনে প্রচুর বৃষ্টি হতো। এজন্য ইংল্যান্ডে ছাতার প্রচলন যেমন বেশি ছিল, তেমনি বিশ্বের অনেক দেশে ব্রিটিশদের ঔপনিবেশিক বিস্তার থাকায় তারা বিভিন্ন দেশ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে অনেক কম খরচে ছাতা তৈরি করতে পারতো। সে সময় তারা সোনা, রুপা, চামড়া, বিভিন্ন প্রাণীর শিং, বেত ও হাতির দাঁত দিয়ে ছাতার হাতল তৈরি করতো।

poat-image

১৭১৫ সালে মারিয়াস নামে এক পারস্যের নাগরিক পকেট ছাতা আবিষ্কারের দাবি করেন। এর পর উনিশ শতকে ছাতাকে বিভিন্ন ডিজাইনের এবং সহজে বহনযোগ্য করা হয়। ১৮৫২ সালে গেজ নামে ফ্রান্সের একজন নাগরিক স্বয়ংক্রিয় সুইচের সাহায্যে ছাতা খোলার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। ১৯২৮ সালে জার্মানির বার্লিন শহরের হ্যানস হাপট নামে এক ব্যক্তি ছাতা তৈরিতে অভিনব পরিবর্তন আনেন। তিনি ক্ষুদ্রাকৃতির সহজে পকেটে বহনযোগ্য ছাতা তৈরি করেন।

poat-image

 ১৯৩৬ সালে র্লড ও লেডি নামে এই ছাতা জার্মান নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। ১৯৫০ সালের দিকে জার্মানির নিরিপস কোম্পানীর ছাতার ডিজাইন ও আকার ভ্রমনকারীদের মধ্যে বেশ সমাদৃত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৬০ সালে পলিয়েস্টার কাপড়ের পৃথিবী জুড়ে ব্যাপক হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল। উপহার হিসেবেও ছাতা এ সময় খুবই সমাদৃত হতে থাকে। বিংশ শতাব্দির শেষের দিকে ছাতায় আরেক ধরনের পরিবর্তন আসে। এক সময় ছাতার রং কালো থাকলেও এখন নানা রংয়ের ছাতা তৈরি হচ্ছে।

poat-image

ইউরোপিয়ান ছাতা

আপনি কি সাহায্য পেয়েছেন

সকল মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন নিবন্ধন করুন