পৃথিবাীতে মানুষ টিকে থাকতে যে প্রাণী গুলোর উপর নির্ভরশীল

মানুষ হয়ত পৃথিবাীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রানী কিন্তু আপনারা এটা জানেন কী আমরা এমন কিছু প্রানীর উপর নির্ভরশীল যাদের ছাড়া আমাদের পহ্মে পৃথিবীতে টিকে থাকা সম্ভব নয়।

কেঁচো

এরা এমন একটি প্রানী যাদের কথা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই, যাদের বলা হয় ভূমির রাজা। কেঁচো মাটিতে গর্ত খুড়ে যার ভেতর দিয়ে সহজে অক্সিজেন এবং পানি সরবরাহ করানো সম্ভব। এটা মাটি তে বাসকারী অন্যান্য জীবদের টিকে থাকতেও সাহায্য করে। জমিতে সামান্য কেঁচোর উপস্থিতি প্রাকৃতিক ভারসাম্য রহ্মার হ্মেত্রে ভূমিকা রাখে। আর যেসব মাটি তে প্রচুর কেঁচো থাকে, সেখানে ব্যাকটেরিয়া ও ফাংগাস জন্মে। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটা সত্য যে এই প্রানী মাটির রাসায়নিক পুষ্টিগুনাগুণ কে ভেঙে ফেলে এবং তা গাছপালাতে পৌছে দেয়। কেঁচো কে প্রাকৃতিক লাঙল বলা হয়। এরা মাটি কে সেচে এর পুষ্টি কে সব জায়গায় সমভাবে বন্টন করে উর্বরতা বৃদ্ধি করে। এমনকি এদের বর্জ্য বা মলও মাটিকে ঝরঝরে করতে সাহায্য করে।  

পিঁপড়া

প্রায় ১২০০০ প্রজাতির পোকামাকড়ের ভেতর আমরা এই ছোট পিঁপড়ার উপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল। কেঁচোর মত এরাও মাটি কে উলট পালট করে এর গুণাগুণ মিশ্রিত করে থাকে যখন জমিতে উচু ঢিবি বানায়। তবে এটি ছাড়াও তাদের আরও গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রয়েছে। এই প্রকিয়ায় তারা মাটির উর্বরতা বাড়ায়। ফলে অধিক ফসল ও গাছপালা জন্ম নেয় যা আমরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করি। পিঁপড়া ও ছোট পোকামাকড় শস্য দানাকে তাদের গর্তে নিয়ে যায় ফলে বীজ বপনের কাজ টি আপনাআপনি হয়ে যায় এবং গাছপালা সহজেই বেড়ে উঠতে পারে। তাদের অবদানের ফলেই আমরা সকালের কফিপান করতে পারি, চকলেট অথবা সকালের নাস্তার জন্য রুটি খেতে পারছি। এরা বিভিন্ন পরজীবী ছোট লার্ভা মৃত পোকা ও মাছি ভহ্মন করে যা আমাদের জন্য হ্মতিকর।পাশাপাশি পিঁপড়া পরিবেশে অক্সিজেন এর পরিমান বৃদ্ধি করে এবং অতিরিক্ত কার্বনডাইঅক্সাইড কে অক্সিজেন এ পরিনত করে যাতে আমরা নিরাপদে শ্বাস নিতে পারি। এরা ফটোসিন্থেসিসেও সাহায্য করে।

প্লাংকটন

একটি প্রচলিত ভুল ধারনা এদের ব্যপারে আমরা রাখি তা হল, প্লাংকটন বলতে শুধু উদ্ভিদ বোঝায়। কিন্তু ব্যপার টা হল পানির নিচে আপাত দৃষ্টিতে স্থবির মনে হয় এমন অসংখ্য হ্মুদ্র প্রাণী রয়েছে যাদের প্লাংকটন বলে। তারা আমাদের জন্য উপকারী কারণ মূলত তাদের বদৌলতেই আমরা শ্বাসকার্য চালাচ্ছি। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় গাছপালা যে খাদ্য উৎপাদন করছে তাদের কাজে ফাইটোপ্লাংকটন এবং জুওপ্লাংকটন মুখ্য ভুমিকা রাখে।তারা সূর্যের আলোর মাধ্যমে অক্সিজেন উৎপন্ন করে সমস্ত পরিবেশে তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। তো বন্ধুরা, এখন ই একটা গভীর নিঃশ্বাস নিন এবং প্লাংকটন দের ধন্যবাদ দিন কারণ বিশ্বের অর্ধেক অক্সিজেন কিন্তু তাদের মাধ্যমেই আসে।

বাদুড়

দেখতে নামের মতই বিদঘুটে হলেও মানুষ এর জন্য সত্তিকারের সুপারহিরো। এই নিশাচর প্রানীটি কখনওই মানুষ এর হ্মতি করে না যদি না তাদের বিরক্ত করা হয়। জানা যায় যে, আবিষ্কৃত ১২০০ প্রজাতিভুক্ত বাদুড় রা সারাবছর ই হ্মতিকারক পোকা খেয়ে ফসল রহ্মা করে। বাদুড় আমাদের মুল্যবান শস্য কে আক্রমনকারী প্রায় লহ্মাধিক পোকা খেয়ে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রাসায়নিক কীটনাশক ও বিষাক্ত ঔষুধের লব্যবহার কমে, যা ক্যন্সার সৃস্টিকারী। তাছাড়া এরা মশা ভহ্মনকারী যা অসংখ্য রোগের বাহক। আপনি কী জানেন যে বাদুড় ঘন্টায় প্রায় ১০০০ মশা খায় যার কারণে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কমে যায়। এরা উত্তম পরাগবাহক। ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে অনেক দুরের পথও তারা পাড়ি দেয় যা তাদেরকে পরিবেশে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সাহায্য করে। অন্যান্য বীজ ছড়ানো পরাগবাহক প্রানীর তুলনায় বাদুড় বেশি দুরত্ব অতিক্রম করে তাই অনেক দূর অব্দি ফল বা ফসলের বীজ ছড়িয়ে দিতে পারে এবং গাছপালা তার থেকে জন্মাতে পারে।

মৌমাছি

মৌমাছি ফুলে পাতায় বসে তা সবাই জানি। কিন্তু এটা আপনারা জানেন কী যে মৌমাছি না থাকলে আমাদের জন্য টিকে থাকা কত টা দুষ্কর হত। আবিষ্কৃত প্রায় ২০,০০০ প্রজাতির মৌমাছির মধ্যে সকল মৌমাছি একটা কাজ অবশ্যই করে থাকে তা হল ফল উৎপাদন। বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী আনইন্সটাইন তার গবেষণার মাধ্যমে প্রামান করে দেখিয়েছেন যে যদি কিছুদিন পর পৃথিবী থেকে মৌমাছি বিলুপ্ত হয়ে যায় তবে মানুষ জাতি সসর্বসাকুল্য এরপর আর ৪ বছর টিকে থাকতে পারবে। যদিও অনেক বিজ্ঞানী এতে দ্বিমত পোষন করে তবে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে মৌমাছি মধু উৎপন্ন করে যা চিনি ও শক্তির অন্যতম উৎস। উপরন্তু তারা সবচেয়ে বেশি পরাগায়ন ঘটাতে সাহায্য করে। জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকাতে প্রায় ৮০% শস্য উৎপাদিত হয় মৌমাছি বাহিত পরাগায়নের মাধ্যমে। পরাগায়ন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ফুলের পরাগরেনু পুরুষ গুলের জননাঙ্গ থেকে স্ত্রী ফুলের গর্ভাশয়ে স্থানান্তরিত হয়। এই প্রক্রিয়া ছাড়া গাছপালা বংশবৃদ্ধি করতে পারবে না এবং গাছপালা না জন্মালে মানবজাতিও বেচে থাকতে পারবে না।

প্রজাপতি

প্রজাপতি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বহুগুনে বাড়িয়ে তোলে। তারা তাদের রঙ্গিন ডানার সাহায্য নিয়ে পরাগায়ন করে। এছাড়া ও প্রজাপতি জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে ধারনা দিতে পারে। সম্প্রতি গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে ইউরোপিয়ান প্রজাপতিরা ধীরে ধীরে উত্তরে শীতলতর জলবায়ুর দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং এর প্রধান কারণ হচ্ছে তাপমাত্রার পরিবর্তন। প্রজাপতিরা মৃদু আবহাওয়া পছন্দ করে। এজন্য তারা অনেক বেশি স্থান পরিবর্তন করে। এভাবে তারা বিজ্ঞানীদের কে আবহাওয়া ও জলবায়ু চেঞ্জের কারণ শনাক্তকরণ এ সাহায্য করছে।

ব্যাঙ

হয়ত কখনো এই ছোট জীবটাকে আমরা গুরুত্বের সাথে দেখি না। কিন্তু ব্যাঙ এমন একটা প্রানী যা কিনা স্কুলের ল্যাব এ ব্যাবচ্ছেদের কাজে ব্যবহৃত হওয়ার থেকে মানুষ এর জীবনের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাঙ এক প্রকারের বায়ো ইনডিকেটর। যা বাস্তুসংস্থান এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য ঠিক আছে কিনা তা নির্দেশ করে। ব্যাঙ এর শরীররের চামড়া অনেক বেশি পাতলা এবং ছিদ্রযুক্ত যা পরিবেশের বিভিন্নত পদার্থকে তার ত্বকের ফ্যাটি টিস্যুর নিচে শোষন করতে পারে। এরা উভচরী সেজন্য জল এবং স্থল দুই আবাসস্থল এর দুষন এর ব্যপারে ধারনা দিতে পারে।এছাড়া ব্যাঙ অনেক হ্মতিকারি পোকা খেয়ে আমাদের উপকার করে।

ভালো লাগলে লাইক কমেন্ট এবং শেয়ার করতে ভুলবেন না। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

তথ্য সংগ্রহ : হাসনাত শৈলী

সকল মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন