শিল্প নগরী খুলনা

খুলনা ঢাকা এবং চট্টগ্রামের পরে বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর। খুলনা জেলা এবং খুলনা বিভাগের সদর দপ্তর এই খুলনা শহরে অবস্থিত। খুলনা বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে রূপসা এবং ভৈরব নদীর তীরে অবস্থিত। বাংলাদেশের প্রাচীনতম নদী বন্দরগুলোর মধ্যে খুলনা অন্যতম। খুলনা বাংলাদেশের অন্যতম শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় খুলনাকে শিল্প নগরী হিসেবে ডাকা হয়। খুলনা শহর থেকে ৪৮ কি.মি. দূরে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মংলা সমুদ্র বন্দর অবস্থিত। পৃথিবী বিখ্যাত উপকূলীয় বন সুন্দরবন খুলনা জেলার দক্ষিণাংশে অবস্থিত। খুলনাকে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার বলা হয়।

নামকরণ ও কর্পোরেশন এ রুপান্তর

খুলনা নামকরণের উৎপত্তি সম্বন্ধে নানান মত রয়েছে। সবচেয়ে বেশি আলোচিত মতগুলো হলো : মৌজা কিসমত খুলনা' থেকে খুলনা; ধনপতি সাওদাগরের দ্বিতীয় স্ত্রী খুল্লনার নামে নির্মিত  খুল্লনেশ্বরী কালী মন্দির' থেকে খুলনা; ১৭৬৬ সালে  ফলমাউথ' জাহাজের নাবিকদের উদ্ধারকৃত রেকর্ডে লিখিত Culnea শব্দ থেকে খুলনা। ইংরেজ আমলের মানচিত্রে লিখিত Jessore-Culna শব্দ থেকে খুলনা,- কোনটি সত্য তা গবেষকরা নির্ধারণ করবেন।

তবে খুলনা পৌরসভার জন্মবৃত্তান্তে আসতে গেলে দেখা যায় যে, খুলনা পৌর এলাকা অতীতে জসর (যশোর) জেলার মুরলী থানার অন্তর্গত ছিল। পরে রূপসা নদীর পূর্বপাড়ে তালিমপুর, শ্রীরামপুর (রহিমনগর) এর কাছে সুন্দরবনের জঙ্গল কেটে নতুন থানা স্থাপন করা হয় এবং এর নাম দেয়া হয় নওবাদ (নয়াবাদ) কারো মতে এ নতুন থানা ১৭৮১ খ্রি. আবার কারো মতে ১৮৩৬ খ্রি. সৃষ্টি হয়। ১৮৪২ সালে খুলনা মহাকুমার জন্ম হয়। উল্লেখ্য তখনকার অবিভক্ত বাংলার প্রথম মহাকুমা হলো খুলনা। পরে তার পরিধি সম্প্রসারিত হয়ে বর্তমানের খুলনা ও বাগেরহাট জেলা দুটি নিয়ে ছিল খুলনা মহাকুমা। ১৮৬৩ সালে বাগেরহাটে স্বতন্ত্র মহাকুমার কার্যালয় স্থানান্তরিত হয় এবং ১৮৪৫ সালে সেখানে প্রথম দালানকোঠা ওঠে যা আজকে জেলা প্রশাসকের বাসভবন।

প্রথম প্রশাসক ছিলেন ডেপুটি মিঃ শোর এবং দ্বিতীয় মহাকুমা হাকিম ছিলেন সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তিনি এই বাসভবনে বসে তার উপন্যাস ‘‘দুর্গেশ নন্দিনী’’ রচনা করেছিলেন। পরে ১৯৮২ সালের ২৫ এপ্রিলের সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী খুলনা জেলার জন্ম হয় এবং তৎকালীন যশোর জেলার খুলনা ও বাগেরহাট মহাকুমা দুটি এবং ২৪ পরগনা জেলার সাতক্ষীরা মহাকুমা নিয়ে ঐ সালের ১ জুন থেকে এ নতুন জেলার কাজ শুরু হয়। প্রথম জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন মি. ডব্লুউ এন ক্লে। তার নামানুসারে শহরের ক্লে রোড হয়েছে।

খুলনা জেলা শহর হলেও অনেকের জানা নেই যে, এ জেলার প্রথম মিউনিসিপ্যালিটি হলো সাতক্ষীরায় ১৮৬৯ সালের ১ এপ্রিল। জেলার দ্বিতীয় মিউনিসিপ্যালিটি হলো দেবহাটায় ১৮৭৬ সালে এবং তা ১৯৫৫ সালে বাতিল হয়ে ইউনিয়ন বোর্ডে পরিণত হয়। জেলার তৃতীয় মিউনিসিপ্যালিটি হলো ১৮৮৪ সালে খুলনা শহরে। ১৮৮৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর মিউনিসিপ্যালিটির দ্বিতীয় সভায় ভাইস চেয়ারম্যান বাবু কৈলাশচন্দ্র কাঞ্জিলালের বাড়ি সত্যচরণ হাইস এ সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে মিউনিসপ্যালিটির অফিস স্থাপন করা হয় এবং সেখানে কাজ চলতে থাকে। সে ভবনের অস্তিত্ব আজ আর নেই, তবে কারো কারো মতে ভবনটি বর্তমান পৌর ভবনের কাছে ছিল। 

নামকরণ ও কর্পোরেশন এ রুপান্তর

দি ক্যালকাটা গেজেটে' ১৮৮৪ সালের ২৮ মে সংখ্যার ৬৩৮ পাতার মুদ্রিত মিউনিসিপ্যালিটির প্রস্তাবিত চৌহদ্দী ছিল উত্তরে ভৈরন নদী, পূর্বে ভৈরব ও রূপসা নদীসমূহ, দক্ষিণে- মতিয়াখালী খাল এবং লবণচরা খাল এবং মইয়া নদীর উত্তরাংশ এবং পশ্চিমে- বড় বয়রার দক্ষিণ পূর্ব অংশ, গোয়ালপাড়া এবং মুফগুন্নি (মুজগুন্নি)। পরবর্তীতে ১৮৮৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞপ্তি দ্বারা বাংলার লেফটেন্যান্ট গবর্নর খুলনাকে মিউনিসিপ্যালিটি ঘোষণা করেন। এ বিজ্ঞপ্তিটি দি ক্যালকাটা গেজেটে ১৮৮৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৯৫৩ পাতায় মুদ্রিত হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কারণসম্মত আপত্তি পড়ায় শেখপাড়াসহ গোবরচাকা এবং নুরনগর বাদ দিয়ে কয়লাঘাটাসহ খুলনা, হেলাতলা, বানিয়াখামার, টুটপাড়া, চারাবাচিসহ শিববাঠী এবং বারিয়াপাড়াসহ ছোট বয়রা নিয়ে মিউনিসিপ্যালিটি ১৮৮৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর করা হয়। এ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ১৮৮৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর থেকে খুলনা মিউনিসিপ্যালিটির প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে রেভারেন্ড গগণচন্দ্র দত্ত কার্যভার গ্রহণ করেন। নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে যে, ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি বোর্ড প্রথমে খুলনা মিউনিসিপ্যালিটির পরিচালনায় ছিল, যার মধ্যে ১০ জন নির্বাচিত সদস্য, ৪ জন পদাধিকার বলে এবং একজন মনোনীত ছিলেন। শুরুতে ৪ দশমিক ৬৪ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে শুরু হয় খুলনা মিউনিসিপ্যালিটির যাত্রা।

১৯৬০ সালে মিউনিসিপ্যাল এ্যাডমিনিস্ট্রেশন অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী খুলনা মিউনিসিপ্যাল কমিটি পুনর্গঠন হয় এবং সীমানা ৪ দশমিক ৬৪ বর্গমাইল থেকে ১৪ দশমিক ৩০ বর্গমাইলে সম্প্রসারিত হয়। শুরুতে মাত্র ৪ হাজারের মতো পৌরবাসী থাকলেও ১৯৬১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী পৌরবাসীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লাখ ২৯ হাজার ১৯৯ জন। ১৯৬০ সালে মিউনিসিপ্যাল কমিটিতে সদস্য সংখ্যা ছিল ২৮ এর মধ্যে ১৪ জন নির্বাচিত এবং ১৪ জন মনোনীত। এ সময়ে মিউনিসপ্যালিটি ১৪টি ওয়ার্ডে বিভক্ত ছিল এবং সর্বময় কর্তৃত্বে ছিল বিভাগীয় কমিশনার। পৌরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ এর কাজ পরিচালনা করতেন। খুলনা মিউনিসিপ্যালিটির সর্বশেষ বিবর্তন ঘটে ১৯৭২ সালে।

বাংলাদেশ লোকাল কাউন্সিলস এবং মিউনিসিপ্যাল কমিটিজ অর্ডার ১৯৭২ অনুযায়ী ১৯৭২ সালের ২০ জানুয়ারি নাম পরিবর্তন হয়ে খুলনা পৌরসভা হয়। বাংলাদেশ হওয়ার পর নির্বাচন দিলে ২০/০২/১৯৭৪ সালে ন্যাপ নেতা গাজী শহীদুল্লাহ এবং আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুর রহমান জাহিদ যথাক্রমে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। গাজী শহীদুল্লাহ ১৪/০৯/১৯৭৬ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে ৫৯তম চেয়ারম্যান হিসেবে সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট এনায়েত আলী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

সামরিক শাসন জারির পর দেশের সকল পৌরসভার কমিটি বাতিল করে দিলে ২২/০৯/১৯৮২ তারিখে তার কার্য্যকালের সমাপ্তি ঘটে। পরে ৩১/০৫/১৯৮৪ তারিখে সার্কিট হাউজ ময়দানে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় তখনকার চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম রাষ্ট্রপতির হাতে যে মানপত্র অর্পণ করে তার মধ্যে ‘‘কর্পোরেশন’’ এ উন্নীত করনের দাবি করেন। অবশেষে ওই সালের ১০ ডিসেম্বর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন হিসেবে উন্নীত হয়। পরে ১২ ডিসেম্বর শহীদ হাদিস পার্কের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে সুসজ্জিত মঞ্চে লে. জে. এইচ এম এরশাদ খুলনা মিউনিসিপ্যালিটিকে খুলনা পৌর কর্পোরেশনে উন্নীত করেন। ১৯৯০ সালে খুলনা সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়।
 

বিভাগের স্বীকৃতি

১৯৪৭ এ দেশ ভাগের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ঢাকা , চট্টগ্রাম এবং রাজশাহী বিভাগ গঠিত হয়। বর্তমান খুলনা বিভাগ তখন রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত ছিলো এবং বরিশাল ছিলো ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত। পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে তৎকালীন রাজশাহী বিভাগের কুষ্টিয়া , যশোর ও খুলনা এবং ঢাকা বিভাগের বাখেরগঞ্জ নিয়ে খুলনা বিভাগের যাত্রা শুরু হয়।

বর্তমানে কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা,চুয়াডাঙ্গা,নড়াইল,মাগুরা, বাগেরহাট,মেহেরপুর সাতক্ষীরা ও ঝিনাইদহ জেলার সমন্বয়ে খুলনা বিভাগ।

স্বাধীনতা

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হলেও দেশের কোনো কোনো জায়গা তখনো হানাদারমুক্ত হয়নি। খুলনা মুক্ত হয়েছিল ১৭ ডিসেম্বর। ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণের পরদিন দুপুরে খুলনার পাকবাহিনী আত্মসমর্পণ করে। ১৬ ডিসেম্বর রাতেও খুলনা কেঁপেছে ট্যাংক, কামান, বোমা ও গোলাবারুদের আঘাতে।

এসময় মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর মুখোমুখি যুদ্ধ হয় খুলনার শিরোমণি, গল্লামারী রেডিও স্টেশন (খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা), লায়ন্স স্কুল, বয়রার পোস্টমাস্টার জেনারেলের কলোনি এলাকা, ৭ নম্বর জেটি এলাকা, নূরনগর ওয়াপদা (পানি উন্নয়ন বোর্ড) ভবন, গোয়ালপাড়া, গোয়ালখালি, দৌলতপুর, টুটপাড়া, নিউফায়ার ব্রিগেড স্টেশনসহ বিভিন্ন এলাকায়।
১৬ ডিসেম্বর শেষ রাতে খুলনায় প্রবেশ পথে গল্লামারীতে যে যুদ্ধ হয় তাতে ২ জন মুক্তিযোদ্ধা মারাত্মকভাবে আহত হন।

১৭ ডিসেম্বর ভোরে শিপইয়ার্ডের কাছে রূপসা নদীতে বটিয়াঘাটা ক্যাম্প থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি লঞ্চ এসে পৌঁছে। কিন্তু শিপইয়ার্ডের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকাপাক সৈন্যরা লঞ্চটির ওপর আক্রমণ চালায় এবং গুলিবর্ষণ করে। মুক্তিবাহিনীও লঞ্চ থেকে নেমে শিপইয়ার্ডের ওপারের ধান ক্ষেতে অবস্থান নিয়ে পাল্টা গুলি চালায়। উভয় পক্ষের গুলিবিনিময়ে ১ জন মুক্তিযোদ্ধা নিহত ও ১৬ জন আহত হন। এই যুদ্ধে পাক বাহিনীরও কয়েকজন সদস্য নিহত ও আহত হয়।

অবশেষে সব বাধা অতিক্রম করে ১৭ ডিসেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধারা খুলনা শহরে প্রবেশ করতে শুরু করেন। খুলনা সার্কিট হাউস দখল করার পর মেজর জয়নুল আবেদীন ও রহমত উল্লাহ্ দাদু যৌথভাবে সার্কিট হাউসে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন। মুক্তিযোদ্ধা স ম বাবর আলী, আবুল কালাম আজাদ, রেজাউল করিম, গাজী রফিকুল ইসলাম প্রমুখ হাদিস পার্কে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন। মিত্রবাহিনী খুলনা শহরে প্রবেশ করার ৮ ঘণ্টা আগেই হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।

অন্যান্য তথ্যসমূহ :

পরিচয়ের অন্য নাম:  শিল্পনগরী, সাদা সোনার শহর ,বাংলার কুয়েত সিটি , সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার
আয়তন : মোট ৪৩৯৪.৪৫ কিমি ২ (১৬৯৬.৭১ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১) :মোট ২৩,১৮,৫২৭
ঘনত্ব: ৫৩০/কিমি ২ (১৪০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার : মোট ৪৩.৯%
সময় অঞ্চল বিএসটি: ( ইউটিসি+৬ )
পোস্ট কোড : ৯০০০

খুলনা জেলার উপজেলাগুলি হল -
কয়রা, ডুমুরিয়া, তেরখাদা, দাকোপ, দিঘলিয়া, পাইকগাছা, ফুলতলা, বটিয়াঘাটা ও রূপসা।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের থানাগুলি হল -

দৌলতপুর থানা, খালিশপুর থানা, খান জাহান আলী থানা, সোনাডাঙ্গা থানা, খুলনা সদর

খুলনা জেলার উল্লেখযোগ্য নদীগুলি হল -
রূপসা নদী , ভৈরব নদ , শিবসা নদী , পশুর নদী , কপোতাক্ষ নদ , নবগঙ্গা নদী , চিত্রা নদী , আঠারোবাঁকি নদী , ভদ্রা নদী , বুড়িভদ্রা নদী, শৈলমারী নদী , কাজিবাছা নদী , ডাকাতিয়া নদী ,শাকবাড়িয়া নদী , কাঁকরী নদী, ঝপঝপিয়া নদী , তেলিগঙ্গা-ঘেংরাইল নদী ,অর্পণগাছিয়া নদী , কুঙ্গা নদী, মারজাত নদী, মানকি নদী, বল নদী, নলুয়া নদী, ঘনরাজ নদী।

 

শিক্ষা ক্ষেত্র

খুলনা, যশোর শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন । এই বোর্ডে জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা গৃহীত হয়ে থাকে। এখানকার উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্য রয়েছেঃ

গভঃ লাবরেটরী হাই স্কুল, খুলনা,খুলনা জেলা স্কুল,সরকারি দৌলতপুর মুহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়,করোনেশনের বালিকা বিদ্যালয়,মন্নুজান সরকারি বালিকা বিদ্যালয়,সরকারি বি এল কলেজ,আযম খান সরকারি কমার্স কলেজ,সরকারী হাজি মোহাম্মদ মুহসিন কলেজ (খালিশপুর),খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ,সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজ,সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ,সরকারি পাইওনিয়ার মহিলা কলেজ,খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট,খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়,খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,খুলনা মেডিকেল কলেজ।

 

অর্থনীতি

খুলনার অর্থনীতি কৃষি নির্ভর। চিংড়ি ও পাট দুটোই এখানের প্রধান অর্থনৈতিক উৎস।তাছাড়াও বাংলাদেশের বাসমতী বাংলামতী এখানেই উৎপাদন করা হয়।

পর্যটন স্থান

পৃথিবীর বৃহত্তম উপকূলীয় বনভূমি সুন্দরবন ,
খুলনা, বাগেরহাট , সাতক্ষীরা
ষাট গম্বুজ মসজিদ, বাগেরহাট
খান জাহান আলি (র) মাজার, বাগেরহাট
খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর , খুলনা
বনবিলাস চিড়িয়াখানা, খুলনা
রূপসা নদী
বিশ্বকবি রবিন্দ্রনাথের শ্বশুরবাড়ি, দক্ষিণ ডিহি, ফুলতলা, খুলনা
আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় এর জন্ম স্থান,
পাইকগাছা থানা , খুলনা
রূপসা সেতু , খুলনা
ধর্ম সভা আর্য মন্দির, খুলনা
শহীদ হাদিস পার্ক ভাষাস্মৃতি শহীদ মিনার, খুলনা
গল্লামারি বধ্যভূমি শহীদস্মৃতি সৌধ, খুলনা
জাতিসংঘ শিশুপার্ক, শান্তিধাম মোড়, খুলনা

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব

খান জাহান আলী (১৩৬৯ - ২৫ অক্টোবর ১৪৫৯) - ইসলাম ধর্ম প্রচারক ও বাগেরহাটের স্থানীয় শাসক;
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার (১৮৩৪ - ১৯০৭) - স্বনামধন্য কবি;
আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় (২ আগস্ট ১৮৬১ - ১৬ জুন ১৯৪৪) - প্রখ্যাত বাঙালি রসায়নবিদ, বিজ্ঞানশিক্ষক, দার্শনিক, কবি;
মৃণালিনী দেবী (মার্চ ১৮৭৪ - ২৩ নভেম্বর ১৯০২) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সহধর্মিনী;
রসিকলাল দাস (১৮৯৯ - ৩ আগস্ট ১৯৬৭) - ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের বিপ্লবী;
অতুল সেন (মৃত্যুঃ ৫ আগস্ট ১৯৩২) - ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের শহীদ বিপ্লবী;
অনুজাচরণ সেন (জুন ১৯০৫ - ২৫ আগস্ট ১৯৩০) - ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের শহীদ বিপ্লবী;
বিষ্ণু চট্টোপাধ্যায় (এপ্রিল ১৯১০ - ১১ এপ্রিল ১৯৭১) - জমিদারতন্ত্র বিরোধী কৃষক আন্দোলনের ঐতিহাসিক নেতা ও সাম্যবাদী রাজনীতিবিদ;
শিবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (১১ জুলাই, ১৮৯৭ - ১৬ ডিসেম্বর ১৯৮২) শ্রমিক নেতা ও স্বাধীনতা সংগ্রামী
শেখ রাজ্জাক আলী (২৮ আগস্ট ১৯২৮ - ৭ জুন ২০১৫) - খ্যাতনামা রাজনীতিবিদ ও্ জাতীয় সংসদের সাবেক স্পীকার;
আবেদ খান (জন্মঃ ১৬ এপ্রিল ১৯৪৫) - সাংবাদিক ও কলাম-লেখক;
ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী (১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৭ - ৬ মার্চ ২০১৮) - প্রখ্যাত ভাস্কর;
তানভীর মোকাম্মেল (১৯৫৫) - চলচ্চিত্র পরিচালক;
ওমর সানী (৬ মে ১৯৬৯) - চলচ্চিত্র অভিনেতা;
মৌসুমী (১১ নভেম্বর ১৯৭৩) - চলচ্চিত্র অভিনেত্রী;
শাইখ আবদুর রহমান মাদানী (১০ জানুয়ারি ১৯৭১) - ওলামা, লেখক এবং লন্ডনের দারুল উম্মাহ মসজিদের খতীব;
শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ (১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ - ২৯ অক্টোবর ২০১৩) - বাংলাদেশী ক্রিকেটার;
আব্দুর রাজ্জাক (১৫ জুন ১৯৮২) - বাংলাদেশী ক্রিকেটার;
এনামুল হক (১৬ ডিসেম্বর ১৯৯২) - বাংলাদেশী ক্রিকেটার,
মানজারুল ইসলাম রানা (৪ মে ১৯৮৪ - ১৬ মার্চ ২০০৭) - বাংলাদেশী ক্রিকেটার;
মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান (২ ডিসেম্বর ১৯৮৬) - বাংলাদেশী ক্রিকেটার;
মেহেদী হাসান (২৫ অক্টোবর ১৯৯৭, খুলনা) - বাংলাদেশী ক্রিকেটার,
সালমা খাতুন (১ অক্টোবর ১৯৯০) - বাংলাদেশী মহিলা ক্রিকেটার;
রুমানা আহমেদ (২৯ মে ১৯৯১) - বাংলাদেশী মহিলা ক্রিকেটার;
আয়শা রহমান (১৪ জানুয়ারি ১৯৮৪) - বাংলাদেশী মহিলা ক্রিকেটার;
জাহানারা আলম (১ এপ্রিল ১৯৯৩) - বাংলাদেশী মহিলা ক্রিকেটার;
শুকতারা রহমান (২ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪) - বাংলাদেশী মহিলা ক্রিকেটার।

এছাড়াও এখানে রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তার শিল্প কারখানা বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেড।

রয়েছে,শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম, আধুনিক রেল স্টেশন, বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার, বাংলাদেশ বেতার ইত্যাদি।

সকল মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন