কুষ্টিয়া জেলার সংক্ষিপ্ত তথ্যাবলী ও দর্শনীয় স্থানসমূহ

কুষ্টিয়া জেলা বালাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। পূর্বে কুষ্টিয়া নদীয়া জেলার (বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গে) অন্তভুর্ক্ত ছিল। ১৮৬৯ সালে কুষ্টিয়ায় একটি পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। হ্যামিলটন্থস গেজেট প্রথম কুষ্টিয়া শহরের কথা উল্লেখ করে। বাংলাদেশের মানুষের কাছে সাহিত্য ও সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়া জেলা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত কুষ্টিয়া জেলা শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বাংলাদেশকে করেছে সমৃদ্ধ। কুষ্টিয়া জেলায় জন্ম গ্রহণ করেছেন বাউল সম্রাট লালন, সুরকার ও কবি আজিজুর রহমান, কবি দাদ আলী, লেখিকা মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা, আবু জাফর, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান। ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া যেতে ৬/৭ ঘন্টা সময় লাগে। কুষ্টিয়া জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ-

poat-image

কুমারখালি উপজেলার শিলাইদহ কুঠিবাড়ী রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজরিত। এখানে  কবিগুরু অনেক গান ও কবিতা রচনা করেছেন। সংস্কারের অভাবে বর্তমানে কুঠিবাড়ীর অবস্থা খারাপ তবুও কবিপ্রেমীরা এখানে এসে কবি সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবেন। কুঠিবাড়ীটি বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

poat-image

বাংলার বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁই এই কুষ্টিয়া জেলার কুমাখালি উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়নের ছেঁউড়িয়া গ্রামে কর্ম সম্পাদন করেছিলেন। তার মাজার বর্তমানে বাউলদের আখড়া হিসেবে পরিচালিত আছে। লালন ভক্তের কাছে তাই অঞ্চলটি পূণ্যভূমি রূপে পরিগণিত।

poat-image

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেল সেতু পাকশী রেল সেতু কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় আছে। হার্ডিঞ্জ ব্রীজ সেতুর একটি স্প্যান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিমানের গোলায় ধ্বংস হয়ে যায় ।

poat-image

বিষাদ সিন্ধুর রচয়িতা বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক মীর মোশাররফ হোসেনের বসত ভিটা কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়ায় অবস্থিত। এখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ছোট আকারের একটি লাইব্রেরী আছে। ১৭ অক্টোবর ২০০৮ সালে মীর মোশাররফ হোসেনের নামে স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে ৫৪ লক্ষ টাকা ব্যায়ে জেলা পরিষদ কুষ্টিয়া কর্তৃক একটি লাইব্রেরী ও অডিটরিয়াম নির্মান করা হয়। কুষ্টিয়া শহর থেকে গাড়ী, বাস ও ভ্যানে যাওয়া যায়। কুষ্টিয়া শহর থেকে দুরত্ব ৬ কিঃমিঃ।

poat-image

কুষ্টিয়া সদর থানার অত্নর্গত ঝাউদিয়া গ্রামে শাহী মসজিদ মোঘল সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে ঝাউদিয়ার জমিদার শাহ সূফী আহমদ আলী ওরফে আদারী মিয়া নির্মান করেন। এটি মোঘল শিল্পকলার এক অপূর্ব নিদর্শন। মসজিদটি তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এবং এর চার কোনায় চারটি বড় মিনার আছে। ১৯৮০ সাল থেকে প্রত্নতত্ব বিভাগ এটি সংরক্ষণ করে আসছে। কুষ্টিয়া শহর থেকে সড়ক পথে যাওয়া যাবে। কুষ্টিয়া শহর থেকে দূরত্ব ২২ কিঃমিঃ। 

poat-image

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেতু হিসেবে ’লালন শাহ’ সেতুটি কুষ্টিয়া জেলার পদ্মা নদীর উপর ২০০১ সালের ১৩ জানুয়ারি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর ভিত্তি প্রস্থও স্থাপন করেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেতুটি উদ্ধোধন করেন। ২০০৪ সালের ১৮ মে যান চলাচল শুরু হয়। সেতুটি বাংলাদেশ ও জাপান যৌথভাবে নির্মিত হয়। সেতুটির চারপাশের মনোরম পদ্মা নদীর দৃশ্য প্রতিটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। অনেক দর্শনার্থী সেতুটি পরিদর্শনের জন্য সেতুর চারপাশে প্রতিদিন ভিড় জমান।

আপনি কি সাহায্য পেয়েছেন

সকল মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন নিবন্ধন করুন