ইরাকি বাহিনী ও জেসিকা লিঞ্চ (Jessica Lynch)

২০০৩ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাধারণ সদস্য জেসিকা লিঞ্চ নিজ দেশে ফিরে আসেন, তাকে সেখানে একজন বীর হিসেবে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে স্বাগত জানানো হয়। জেসিকা লিঞ্চ ইরাকিদের কাছে বন্দী হন। মার্কিন সেনাবাহিনী তাকে ইরাকের এক হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে। চিকিৎসা শেষ করে যখন তিনি পশ্চিম ভার্জিনিয়ার নিজ শহর প্যালেস্টাইনে প্রবেশ করেন তখন তাকে একজন বীরের মত করে বরণ করে নেওয়া হয়। গল্পটি হলো ঊনিশ বছর বয়স্ক একজন সরবরাহকারী কর্মীর। তিনি ২০০৩ সালে ইরাকি বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। তবে, পরবর্তীতে জানা যায় যে লিঞ্চ এর নাটকীয় গ্রেফতার এবং উদ্ধার বিষয়ক কাহিনীকে কিছুটা অতি রঞ্জিত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরাক আক্রমণ

লিঞ্চ ১৯৮৩ সালের ২৬শে এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। তিনি টেক্সাসের ফোর্ট ব্লিসের ৫০৭ তম অর্ডিন্যান্স মেইনটেনেন্স কোম্পানিতে কাজ করতেন। ২০০৩ সালের ২৩শে মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাক আক্রমণ করার মাত্র কয়েকদিন পরে, লিঞ্চ একটি সরবরাহ বাহন করে যুদ্ধের রসদ নিয়ে যাচ্ছিলেন। দুর্ভাগ্য-বশত; তার সহকর্মীরা পথ ভুল করে। ফলে, নাসিরিয়ার নিকটবর্তী অঞ্ছলে উৎপেতে বসে থাকা ইরাকি সৈন্যবাহিনী তাদের উপর আক্রমণ করে। এই আক্রমণে ইরাকিদের হাতে মোট এগারো জন আমেরিকান সৈন্য নিহত হন, এবং লিঞ্চ সহ আরো চারজনকে বন্দী করা হয়।

লিঞ্চকে উদ্ধার

এই হামলার কারণে লিঞ্চের গাড়ি ক্র্যাশ করে, এবং এর ফলে লিঞ্চের একাধিক হাড় ভেঙ্গে যায়, শরীরের অন্যান্য অংশে তিনি মারাত্মক আঘাত পান। তাকে এক ইরাকি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এপ্রিলের ১ তারিখ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী লিঞ্চকে যে হাসপাতালে রাখা হয়েছিল সেই হাসপাতালে আক্রমণ করে, এবং লিঞ্চকে উদ্ধার করে। তারা সেখান থেকে লিঞ্চের মোট আটজন সহকর্মীর মৃতদেহ উদ্ধার করে। লিঞ্চের চিকিৎসার জন্য তাকে জার্মানির একটি সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে সুস্থ হয়ে তিনি যুক্ত্ররাষ্ট্রে ফিরে আসেন।

 

জনপ্রিয়তা

লিঞ্চের এই ঘটনাটি ব্যাপকভাবে মিডিয়ার মনযোগ আকর্ষণ করে, এবং এতে করে তিনি রাতারাতি জনপ্রিয়তা লাভ করেন। লিঞ্চের অভিজ্ঞতা নিয়ে অনেকগুলো রিপোর্ট বেরিয়েছিল। এরমধ্যে কিছু কিছু খবরে বলা হয় লিঞ্চ আহত হওয়ার পরেও হামলাকারীদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিলেন। তবে, লিঞ্চ পরে সবাইকে জানায়, তার গাড়ি যখন ক্র্যাশ হয় তখন তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন, এবং এরপর কি হয়েছিল তা তার মনে নেই। তিনি আরো বলেন, ইরাকি হাসপাতালে কেউ তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে নি, এবং তাকে উদ্ধার করার সময় কেউ কোন প্রতিরোধ করেনি। তার এই গল্পকে ইরাক যুদ্ধে সমর্থনে পাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার কারণে সমালোচকগণ এবং লিঞ্চ নিজে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে অভিযুক্ত করেন।

অভিজ্ঞতা

২০০৩ সালের আগস্ট মাসে, লিঞ্চ মেডিকেল থেকে ছাড়পত্র পান। সেখান থেকে আসার পর তিনি তার যুদ্ধবিষয়ক এই অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বই লিখেন। বইটির নামঃ I Am a Soldier, Too: The Jessica Lynch Story। বইটি পরের বছর অর্থাৎ ২০০৪ সালে প্রকাশ করা হয়।

লিঞ্চ কংগ্রেসকে জানায় তাকে “little girl Rambo” নামে মিথ্যা উপাধি দেওয়া হয়, এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রচারের স্বার্থে তার গল্পটি বিকৃত করে। লিঞ্চের মতেঃ “আমি এখনো বিভ্রান্ত হই এই ভেবে, কেনো তারা মিথ্যা বললো এবং আমাকে একজন কিংবদন্তি বানানোর চেষ্টা করলো, যেখানে কিংবদন্তী হওয়ার কথা ছিল সেদিনে যুদ্ধ করে নিহত হওয়া আমার সহকর্মীদের।” তিনি আরো বলেনঃ “যুদ্ধের সত্য ঘটনা শুনা এত সহজ নয়, কিন্তু যুদ্ধে যে বীরত্ব রয়েছে তা আসলে গুঞ্জনের চেয়ে তা অনেক বেশী কিছু।”

সকল মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন